নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার
প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত,
দ্রুত যৌবন ফিরে পাচ্ছে বাঁশখালীর জলকদর খাল
মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী,বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ জলকদর খালটি দীর্ঘদিনের দখল ও ভরাটের ফলে নাব্যতা হারানোর পর চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের ( জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত) নব-নির্বাচিত সাংসদ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি'র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খালটিকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত খননের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে যৌবন ফিরে পাবে বাঁশখালীর বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী জলকদর খাল।
গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সার্ভে করে জলকদর খাল খনন প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটি পুনঃখননের উপযোগী করে নিয়েছেন। খাল খনন প্রকল্পের আওতায় পার্শ্ববর্তী ২৫ কিলোমিটার এলাকা সংস্কার করে কৃষিজমি, লবণ চাষ ও মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রও সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রাচীন এই খালটি রক্ষার জন্য ডিজিটাল সার্ভে রিপোর্টের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পশ্চিম বাঁশখালীর ছনুয়া, খুদুকখালী,বড়ঘোনা, গন্ডামারা, সরল,বাহারছড়া ও খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং পূর্বের ন্যায় নৌকা সাম্পান ও ফিশিং ট্রলারের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ, লবণ উৎপাদন, মাছ চাষ ও নৌ-যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে খালটি সরু হয়ে কোথাও ১০-১২ ফুট, আবার কোথাও মাত্র ৫-৬ ফুটে নেমে এসেছে।
মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এ জলকদর খালটি একসময় পানি পথে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল। খালের পাড়েই গড়ে উঠেছিল ব্যবসায়ীক সংযোগস্থল ,বাঁশখালীর সিঙ্গাপুর খ্যাত ঐতিহ্যবাহী ইশ্বরবাবুর হাট, চৌধুরীঘাট, বশির উল্লাহ মিয়াজি বাজার, গন্ডামারা বাজার, বাংলা বাজার, খাটখালী মোহনা,ফাঁড়ির মুখ ও সরলিয়া বাজার ।
কুতুবদিয়া দ্বীপের বাসিন্দারাও নৌকা-সাম্পানে করে এসে এখান থেকেই তাদের সওদা করতেন।
এখানে কৃষি, জনবসতি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিশাল ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খাল ছিল কৃষির প্রাণ, যোগাযোগের মাধ্যম এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা, ভরাট, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, কমেছে সেচের সুযোগ, এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে খাল খনন বা পুনঃখনন কর্মসূচি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের প্রাকৃতিক জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, বরং কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তবে এই কর্মসূচির সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে যদি স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে প্রকল্পের প্রতি মানুষের মালিকানা তৈরি হবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে।