1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
রাতে নেশা, দিনে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাঙ্গুড়ায় রাতে নেশা, দিনে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কৌশিকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না এবং অধিকাংশ সময় কোয়ার্টারে অবস্থান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ প্রতিনিধিকে এমন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ডা. কৌশিক পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। তিনি ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে পদোন্নতি পান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, ওয়ার্ড ও কেবিনের চিকিৎসাকাজ তদারকি করা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় করা একজন আরএমওর প্রধান দায়িত্ব।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ডা. কৌশিক দীর্ঘদিন ধরে এসব দায়িত্ব নিয়মিতভাবে পালন করছেন না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত অন্যান্য মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে তার দায়িত্বের অনেক কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন সহকর্মীদের কেউ কেউ। এতে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ডা. কৌশিক অধিকাংশ সময় হাসপাতালের সরকারি কোয়ার্টারে অবস্থান করেন এবং দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকেন। পরে নিজের সুবিধামতো সময়ে হাসপাতালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর মাধ্যমে তার কাছে মাদক সরবরাহ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডা. কৌশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি আপনাকে কে বলেছে আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে জানাতে পারেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রবিউল ইসলাম
যোগাযোগ: Flat#1/A
House#581
Road#09
Avinue#04
Mirpur DOHS. Dhaka-1216
মোবাইল: +880 01714438181
ইমেইল: 36julypotrika@gmail.com
© ৩৬ জুলাই পত্রিকা