নিজস্ব প্রতিবেদক
বিলুপ্ত র্যাব, পুলিশের অধীনে যাত্রা শুরু করল, এসআরবি
মোঃ রেজাউল করিম, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ,
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনায় থাকা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত আইন গেজেট আকারে প্রকাশের পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করে ইউনিটটি।
আইনি প্রক্রিয়া ও গেজেট প্রকাশ
আইনের নাম, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১৯ নম্বর আইন)।
অনুমোদন ও পাস, গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের পর ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
নতুন এই আইনে র্যাবের নাম এবং এর গঠনের জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এ সংযোজিত সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো রহিত করা হয়েছে।
জনবল, সম্পদ ও আইনি কার্যক্রমের স্থানান্তর।
নতুন ইউনিটের কাছে র্যাবের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামো স্থানান্তরিত হয়েছে। এর মূল দিকগুলো হলো,
জনবল ও সুযোগ সুবিধা, বিলুপ্ত র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব এবং বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা এসআরবির কাছে ন্যস্ত হয়েছে।
সম্পদ ও দায়-দেনা, র্যাবের তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায় দেনা, চুক্তি, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি এবং সব রেকর্ডপত্র নতুন ইউনিটের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া, ‘র্যাব (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ বহাল থাকবে। এছাড়া র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আদালতের কার্যক্রমও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।
লোগো অপরিবর্তিত, নেতৃত্বে আহসান হাবীব পলাশ।
বুধবার থেকে র্যাবের ওয়েবসাইট, লোগো ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে র্যাব এর পরিবর্তে এসআরবি’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও আমন্ত্রণপত্রে, এসআরবি বাংলাদেশ, লেখা লোগো ব্যবহৃত হলেও এর মূল নকশায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
পুলিশের অধীনে গঠিত এই বিশেষায়িত ইউনিটটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বুধবার নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব বিলুপ্তির পটভূমি।
২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স সংশোধনের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয় এবং ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটির ভূমিকা আলোচিত হলেও পরবর্তীকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে র্যাব।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘ ও কমিশনের সুপারিশ,২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) এবং গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।
চূড়ান্ত পরিণতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর র্যাব বিলুপ্ত করে কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হয়, যার ফলশ্রুতিতে এই আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে র্যাব অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।