নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে 'সীমান্ত সড়ক': সার্বভৌমত্ব, সমৃদ্ধি ও অর্থনীতির নয়া দিগন্ত।
মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম তার দুর্গম ভূ-প্রকৃতি, ঘন বন এবং দীর্ঘ সীমান্ত রেখার কারণে ঐতিহাসিকভাবেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে সংযুক্ত, যা এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে । দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের দুর্গমতা একদিকে যেমন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তেমনি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ চোরাচালান এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের কারণে এই অঞ্চল প্রায়শই অশান্ত থাকত, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ ছিল।
সীমান্ত সড়ক' প্রকল্পটি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ১০৩৬ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের দীর্ঘতম সড়ক নেটওয়ার্কগুলোর একটি হতে চলেছে । এই সড়ক নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধ, এবং পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন । এটি স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও সরাসরি অবদান রাখছে, যা এই প্রকল্পের বহুমুখী তাৎপর্যকে তুলে ধরে ।
প্রকল্পটি কেবল একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং একটি বহুমুখী জাতীয় কৌশলগত উদ্যোগ। দুর্গমতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ছিল, যা অবৈধ কার্যকলাপ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতার সুযোগ তৈরি করত। এই অরক্ষিত অবস্থা পরোক্ষভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এই দুর্গমতা দূর হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সীমান্ত বরাবর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ করে তুলছে। এর ফলে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে, যা সরাসরি সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করবে। একইসাথে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও সন্তুষ্টি আনবে, যা দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অপরিহার্য। এটি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ও উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ, যেখানে উন্নয়নকে নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত:
'সীমান্ত সড়ক' প্রকল্পটি বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জুড়ে বিস্তৃত এবং এর মোট দৈর্ঘ্য ১০৩৬ কিলোমিটার । এই বিশাল কর্মযজ্ঞ একাধিক পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয় । এর মধ্যে ৯৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ২২০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী সড়ক অন্তর্ভুক্ত । দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৬০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ১০৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ২৫৬ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী সড়ক । সবশেষ তৃতীয় পর্যায়ে ভারত অংশে ২৮৪ কিলোমিটার এবং মিয়ানমার অংশে ৫২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার সাথে ৪১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে ।
প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটারের কাজ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল । সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়েছে। এটি একটি বিশাল বিনিয়োগ, যা প্রকল্পের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে।এই প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হলো বান্দরবানের কেওক্রাডং পর্বতশৃঙ্গের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে। এর উচ্চতা ৯৬৫ মিটার (প্রায় ৩১০০ ফুট) । এর আগে থানচি উপজেলার বাকলাই-লিক্রে সড়কের সাদ্রাহাফং পাহাড়ের রেমংপাড়া স্থানটি ছিল সর্বোচ্চ (৯২২ মিটার) ।
সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা: অরক্ষিত সীমান্ত থেকে সুরক্ষিত দুর্গ
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সীমান্ত সড়ক এই অরক্ষিততাকে দূর করে সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এই সড়ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দুর্গমতম স্থানে দ্রুত পৌঁছানো এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করা সহজ করে দিয়েছে । এর ফলে সীমান্ত এলাকায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় অপরিহার্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সহজ প্রবেশাধিকার এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলছে, যা সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড় অর্জন। পাহাড়ের দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নির্যাতন চলত, যার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ ব্যবস্থা নিতে সাহস পেত না। সড়ক নির্মাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও যাতায়াত বাড়িয়ে স্থানীয়দের সাহস ও আস্থা বৃদ্ধি করেছে। যদিও সন্ত্রাসী সংগঠন, যেমন কেএনএফ, উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিচ্ছে , সড়ক এই বাধাগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
সীমান্ত সড়ক সরাসরি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করছে। দুর্গমতা এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতো। সড়ক নির্মাণের ফলে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় অবৈধ কার্যক্রম কমে আসবে এবং বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে। এই নিরাপত্তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে, যা আবার স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনবে। প্রকল্পটি ভূ-রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুরক্ষিত সীমান্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত অঞ্চল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। এই সড়ক ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সঙ্গে সড়ক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে, যা কেবল নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
অর্থনৈতিক বিপ্লব: পাহাড়ে নতুন দিনের হাতছানি
সীমান্ত সড়ক পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আগে উৎপাদিত ফল ও ফসল বাজারজাতকরণের অভাবে নষ্ট হতো বা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। এখন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যেমন কাজু বাদাম, ড্রাগন, কফি, মাল্টা, আম, লিচু, আনারস ইত্যাদি সহজে বাজারজাত করতে পারছেন এবং ভালো মূল্য পাচ্ছেন । আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম ও উপকরণ সহজে জমিতে বহন করা যাচ্ছে, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে । যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পাহাড়ে নতুন নতুন উদ্যোগ, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানমূলক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সৃষ্টি হচ্ছে । স্থানীয় পণ্য সহজে বাজারজাত হচ্ছে এবং বড় শহরের ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ সহজ হচ্ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে । বিনিয়োগকারীরা শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন, বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ।সীমান্ত সড়কের আঁকাবাঁকা পথ এবং চারপাশের সবুজের সমারোহ এটিকে নিজেই একটি পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করেছে । কেওক্রাডং-এর মতো সর্বোচ্চ সড়ক পথ পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে । সড়ক ঘিরে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র ও স্থাপনা গড়ে উঠছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াবে । পর্যটকদের আগমন কেবল ভ্রমণ খাতে নয়, স্থানীয় পণ্য ক্রয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অদম্য অবদান: চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রদূত
'সীমান্ত সড়ক' প্রকল্পের মতো বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড । এই ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৬, ১৭, ২০ এবং এডহক ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সড়ক নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে। দুর্গম এলাকায় কাজের মান বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীকে দিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ হচ্ছে ।
সেনাবাহিনীর পূর্ববর্তী পাহাড়ি সড়ক নির্মাণের অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পে কাজে লাগানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণের পেছনে সেনাবাহিনীর অনেক সৈনিক, কর্মকর্তা এবং বেসামরিক শ্রমিকরা নিরলস পরিশ্রম করছেন এবং সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন সেনা সদস্যসহ সাত জন। তারা পরিবার-পরিজন দূরে রেখে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে কাজ করছেন । সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছে এবং আরও একটি নির্মাণাধীন রয়েছে । এই স্কুলগুলোর সম্পূর্ণ ব্যয় ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বহন করে । এটি কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই প্রকল্পের মেরুদণ্ড। তাদের প্রকৌশলগত দক্ষতা, দৃঢ়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা এই প্রকল্পের সাফল্যের মূল কারণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের উপস্থিতি এবং তাদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক। যেখানে সন্ত্রাসীরা বাধা সৃষ্টি করছে, সেখানে সেনাবাহিনী কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেও জনগণের মন জয় করছে। এই বহুমুখী ভূমিকা স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে সেনাবাহিনীকে দেখতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি সামরিক-প্রকৌশলগত প্রকল্প নয়, বরং একটি 'সিভিল-মিলিটারি কোঅপারেশন' মডেলের উদাহরণ। তাছাড়া এটি দেশের প্রকৌশল সক্ষমতার ও এক অনন্য উদারহণ হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে। সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও উন্নয়নমূলক দিকটি পার্বত্য অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, কারণ জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা ছাড়া কেবল সামরিক অভিযান দিয়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব নয়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: শান্তির পথে অগ্রযাত্রা
২০৩৫ সালের মধ্যে ১০৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সড়ক নেটওয়ার্ক হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে । তবে, প্রকল্পের বিশালতা এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এখনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, বিশেষ করে মাটির প্রকৃতি, নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন এবং শ্রমিক ব্যবস্থাপনা । নির্মিত সড়কের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে ।
প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদী প্রকৃতি ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার কেবল একটি সড়ক নির্মাণ করছে না, বরং একটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি একটি সামগ্রিক এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প কেবল বর্তমানের সমস্যাগুলো সমাধান করছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করছে। এই সড়ক শুধু অবকাঠামো নয়, এটি পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনছে । এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—সন্ত্রাস নির্মূলের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ