“মায়ের জানাজায় এক সন্তানের নীরব কান্না:
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
“মায়ের জানাজায় এক সন্তানের নীরব কান্না:
মোঃ শামসুল হক ইমন
স্টাফ রিপোর্টার - ময়মনসিংহ।
“মায়ের জানাজায় এক সন্তানের নীরব কান্না: সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প”
জীবনের কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো কাউকে প্রস্তুত করে না।
মা হারানোর মুহূর্ত তেমনই এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা।
আর সেই মুহূর্তেই লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা—
এটা শুধু সাহস নয়, এটা আত্মসংযমের সর্বোচ্চ পরীক্ষা।
মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় তারেক রহমান সেই পরীক্ষায় অনন্যভাবে উত্তীর্ণ হলেন।
নজরুল ইসলাম খান যখন ঘোষণা করলেন—
“এখন পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখবেন মরহুমা খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান।”
মাঠ জুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে।
কারণ সবাই জানতো—
এই মুহূর্তে তিনি একজন রাজনীতিবিদ নন,
তিনি একজন ছেলে—যিনি কিছুক্ষণ আগেই মাকে হারিয়েছেন।
তিনি ধীরে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালেন।
মুখে কোনো অভিনয় নেই,
চোখে লুকোনো পাহাড়সম কষ্ট,
কণ্ঠে অবিশ্বাস্য সংযম।
আর তারপর বললেন—
“আসসালামুআলাইকুম…
আমি মরহুমা খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান।
আমার মা যদি কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—আমি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ।
আমার মায়ের কথায় বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তার পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি।
আপনারা আল্লাহর ওয়াস্তে উনাকে ক্ষমা করে দেবেন।
উনার জন্য দোয়া করবেন।
আসসালামুআলাইকুম।”
এইটুকুই।
মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়।
কিন্তু সেই এক মিনিট যেন কয়েক যুগের ভার বহন করছিল।
তিনি মায়ের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পরিচয় উচ্চারণ করলেন না,
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টানলেন না,
নিজের দুঃখের কথাও বললেন না।
কারণ তিনি জানতেন—
এই মুহূর্তে নিজের কান্নার চেয়ে মায়ের সম্মান বড়।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ বলছিলেন,
“এমন মাইকে সাধারণ মানুষ হলে কত কথা বলে ফেলতো। কিন্তু তিনি এসে যেগুলো না বললেই নয়—শুধু সেগুলোই বললেন, তারপর চলে গেলেন।”
সেই চলে যাওয়ার ভেতরেই ছিল সবচেয়ে বড় শিক্ষা—
নেতৃত্ব মানে মঞ্চে দীর্ঘ কথা বলা নয়,
নেতৃত্ব মানে কঠিন মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা।
শেষ এক বছরে তার বক্তব্যগুলো লক্ষ্য করলে বোঝা যায়,
তিনি ধীরে ধীরে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করছেন—
শব্দ কম, দায়িত্ব বেশি;
আবেগ কম, নীতি শক্ত।
নিজের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক বক্তৃতাতেও
তিনি সেই চর্চা থেকে একচুলও সরলেন না।
এই জানাজা শুধু একজন নেত্রীর বিদায় ছিল না,
এটা ছিল একটি সন্তানের নীরব ভালোবাসার ঘোষণা,
আর একটি দেশের সামনে দাঁড়িয়ে
নতুন ধরনের নেতৃত্বের জন্মের মুহূর্ত।
আপনার মতামত লিখুন :