ad728

জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ, সৎ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বই গনতন্ত্র বিকাশের অন্যতম নিয়ামক


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ, সৎ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বই গনতন্ত্র বিকাশের অন্যতম নিয়ামক
এ কে এম আবুল কালাম আজাদ

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফিতি, শিক্ষাঙ্গানে অস্থিরতা সমাজ জীবনে নৈতিকতা মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির কৃত্রিম অভাব আজ গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে কোথাও যেনো কিছুর অভাব। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সমাজ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে শান্তি সম্প্রীতির জন্য শিক্ষা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি উন্নয়নের কথা বলছেন কিন্তু কোন উন্নয়নই আজ সমাজে তথা দেশে শান্তি স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারছে না যেনো লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতো চলছে সমাজ ব্যবস্থা সে জন্যই গোটা বিশ্ব জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে। সমাজ হলো এমন একটি ব্যবস্থা বা পক্রিয়া যেখানে একাধিক বৈশিষ্ট্যের বা চরিত্রের লোক মিলেমিশে কিছু নিয়মকানুন মেনে একত্রে বসবাস করে তখন তাকে সমাজ বলে, একটি সমাজের রীতিনীতি সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। সমাজটি যদি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয় তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে সমাজটি স্মার্ট সমাজ। যেখানে আধুনিক সকল প্রযুক্তির ব্যবহার বিদ্যমান। আজ পৃথিবীতে আমরা আমেরিকা, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন কে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করি এবং সে সকল দেশের নাগরিকরা উন্নত জাতি হিসেবে স্বীকৃত, একটি উন্নত জাতির নিম্নেলিখিত মানদন্ড গুলি জরুরী। (১) মানব সভ্যতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি জীবন যাত্রার মান বজায় রাখা (২) মানব জীবনে ক্রমাগত কল্যাণ বৃদ্ধি করা (৩) সরকারের সকল প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা জনগনের নিকট সমান ভাবে বন্টন করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, গৃহায়ন ও সামাজিক কল্যান সকলের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রমোন্নত করা এবং পরিবেশ নিরাপদ করা। এগুলি নিশ্চিত করতে দরকার স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সৎ ও দেশপ্রেমিক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। কিন্তু আমাদের দেশে এমন কি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে রাজনীতি ও প্রশাসন এক করে ফেলা বা রাজনীতিবিদ দ্বারা প্রশাসনকে পরিচালিত করতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং জন সেবার সুষম বন্টন হচ্ছে না। এখানে তৃতীয় একটি শক্তি বা শ্রেণীর বিকাশ হচ্ছে। এই তৃতীয় শ্রেণীই সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে অন্য একটি পক্ষকে শোষন নির্যাতন করছে। এর থেকে পরিত্রানের জন্য চাই একটি গনতান্ত্রিক পরিবেশ, একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। সরকারী কাজের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো সংশ্লিষ্ঠ কাজ চালিত ও নির্দেশিত করার জন্য সঠিক নেতৃত্বের সংস্থান। নেতৃত্ব তিনটি প্রয়োজনীয় শর্তের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে কর্তৃত্ব, ক্ষমতা এবং যোগাযোগ। একজন নেতার: "(১) প্রানবন্ততা এবং সহিষ্ণুতা (২) দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং অনুপ্রেরনা দানের সামর্থ্য (৩) দায়িত্বশীলতা এবং বুদ্ধি বৃত্তিগত সক্ষমতা (৪) মানসিক স্থিতিশীলতা (৫) বর্তমান বিশ্ব সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান (৬) ব্যক্তিগত অনুপ্রেরনা (৭) শিক্ষাগত যোগ্যতা (৮) নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা এবং সম্মোহনী শক্তি" থাকা বাঞ্চনীয়।

একটি দেশের উন্নয়ন স্থিতিশীলতা গণতন্ত্র চর্চা বিকাশ মান বজায় রাখা সম্পূর্ণ নির্ভর করে একজন দক্ষ দেশ প্রেমিক নেতৃত্বের স্বদিচ্ছার উপর। যেমন বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মালোশিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কামাল আতাতুর্ক, চীনের মাওসেতুং, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর নাম উল্লেখযোগ্য। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সংবাদ
পত্রের স্বাধীনতা হরন করা, একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী মতের উপর দমন-পীড়ন করে অপ-রাজনীতি কায়েম করা, ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করে সে দেশে গনতন্ত্র বিলুপ্ত করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ-হাসিনা স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করে, গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে বিরোধীদলের মত ও পথ বন্ধ করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার হীন মানসে, দেশের বিচার ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা, প্রশাসন সহ সকল সেক্টর ধ্বংস করেছে। গনতন্ত্রের মূল স্তম্ভ ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া, ঘুম, খুন এর রাজনীতি চালু করে জনগনের বিশ্বাস ভুলণ্ঠিত করেছে। আমাদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে শুরুতে স্বাধীনতার ঘোষনায় বাংলাদেশের জনগনের জন্য সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছিলো।

ন্যায় বিচার বিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বৎসর পূর্বে গ্রীক দার্শনিক প্লেটো "সৎ" ব্যক্তিদের উপর দেশের শাসন ভার ন্যস্ত করার উপর গুরুতারোপ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনেও ন্যয় বিচার ও কল্যান মুখী সমাজ গঠনের জন্য মানুষকে নেতা মনোনয়নের সময় সকল আবেগ ও সংকীর্নতার উর্ধ্বে উঠে 'সৎ" ও "নিঃস্বার্থপরতার" কষ্টি পাথরে যাচাই করে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ, আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের একটি পতাকা, একটি ভূখন্ড স্বাধীন বাংলাদেশ কিন্তু যে চেতনা নিয়ে এদেশের মুক্তি পাগল ছাত্র জনতা দেশ স্বাধীন করেছে জনগন কি আজ তার সু-ফল পেয়েছে? না। কারন গনতন্ত্রের সঠিক বিকাশ হচ্ছেনা, গনতন্ত্র বিকাশে মাঝে মাঝে ছন্দ পতন হচ্ছে। গনতন্ত্র হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে জনগন তাদের পছন্দমতো ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করে, গনতন্ত্রের মূল কথাই হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা এর অর্থ হলো ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি বা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা।

স্বাধীন মত প্রকাশ ছাড়াও গনতন্ত্রে আরো কতগুলো মৌলিক অধিকার রয়েছে আর সেগুলো হলো সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার যেমনঃ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, এবং শিক্ষা লাভের অধিকার। ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ আল-কোরআনে মহান আল্লাহ তার সৃষ্টি সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রদান এবং অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা বর্নণা করেছেন। সাধারন মানুষ এর সব কিছু বুঝতে পারেনা, তাই তিনি জ্ঞানী, বোধ শক্তি সম্পূর্ন, চিন্তাশীল ও অর্ন্তদৃষ্টি সম্পূর্ন লোকদেরকে এ সকল বিষয়ে চিন্তা ও গবেষনা করতে বলেছেন কারন, চিন্তা ও গবেষনা অনুসন্ধ্যান করলে মানুষ আকাশ ও পৃথিবী সমন্ধে আরো অনেক বেশী জ্ঞান অর্জন করতে পারবে যা তাদের অনেক উপকারে আসবে। কিছু অসাধু নেতৃত্বের জন্য আমার মাতৃভূমি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও আমাদের দেশের জনগন একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একটি সঠিক পথের সন্ধান করছেন জনগণ, একটি দেশ প্রেমিক নেতৃত্বের অপেক্ষায়। যেখানে আজ উন্নত বিশ্ব আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সারা বিশ্বে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে সেখানে আমরা ভোট আর ভাতের নিশ্চয়তার জন্য সময় নষ্ট করছি। বর্তমানে গোটা বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে জ্ঞান বিত্তিক সমাজে প্রবেশ করছে। একটি জাতির মেরুদন্ড হলো শিক্ষাব্যবস্থা, এই শিক্ষা ব্যবস্থা মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে শিক্ষা কারিকুলামকে সু-পরিকল্পিত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ বিবর্জিত, নাস্তিকতাবাদ বিকাশ, ইসলাম বিদ্বেষী কারিকুলাম প্রচলন করে গোটা জাতিকে মেধাশূন্য করার নীল নকশা রচনা করেন। আজ উচ্চ শিক্ষায় নৈরাজ্য বিরাজ করছে। উচ্চ শিক্ষার মান বজায় রাখার কোন মাপকাঠী রাখা হচ্ছেনা, ডালাও ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হচ্ছে যার অধিকাংশই সার্টিফিকেট বিক্রয়ের দোকান হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু উচ্চ শিক্ষার মূল মন্ত্রই হলো মেধা। মেধাবীদের জন্য উচ্চ শিক্ষা। কম মেধাবীদের জন্য শিক্ষা হবে কর্মমুখী যেমনঃ কারিগরী, ভোকেশনাল, এদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদে পরিনত করা যা নিজের জন্য এবং দেশের জন্য কল্যানকর হবে। দেশের প্রতিটি সন্তানকেই যোগ্যতানুযায়ী শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। আমাদের শিক্ষা নীতি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিকতার আলোকে সাজাতে হবে। দল বা
স্বজনপ্রীতি বর্জন করে সর্বক্ষেত্রে মেধার উপর গুরত্বারোপ করতে হবে, কোন সমাজ যদি মেধার লালন না করে তবে সেই সমাজে মেধাবী লোক বা গুনিজনের জন্ম হয়না। জ্ঞান বিত্তিক সমাজের মূল শর্তই হলো গনতন্ত্র, গনতন্ত্র চর্চার মধ্যে দিয়েই জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের বিকাশ হয়। জ্ঞান বিত্তিক সমাজ প্রতিষ্টা করতে হলে শিক্ষার উপর বেশী গুরুত্বারোপ করতে হবে। সমাজের প্রতিটা পরতে পরতে শিক্ষার জ্ঞান কে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষন এবং মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি, প্রানী সম্পদ, মৎস, বনায়ন, স্বাস্থ্য, শিল্প, আইটি, বানিজ্য প্রতিটা ক্ষেত্রে শিক্ষা অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে তাহলেই জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধিত হবে।

লেখকঃ সাবেক সহ-সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবকদল কেন্দ্রীয় কমিটি।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ