সাতকানিয়ায় চার রোহিঙ্গার পেট থেকে ১৯ হাজার ৫০০ পিস ই'য়া'বা উ'দ্ধা'র
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সাতকানিয়ায় চার রোহিঙ্গার পেট থেকে ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার
আব্বাস উদ্দিন ইকবাল সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পেটের ভেতর অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারকালে চারজন রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) এর একটি টিম।রোববার (৩মে) রাতে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।এসময় তাদের পেটে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থা থেকে ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।ইয়াবাগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ লাখ টাকা বলে র্যাব জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-জিয়াউর রহমান (৩৫),মোঃ সাকের (২৮), আবু তৈয়ব (৩৫) ও জাফর মিয়া (৪০)।এরা সবাই বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা)।
র্যাব-১৫ (বান্দরবান পার্বত্য জেলা ক্যাম্প) একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায়, কক্সবাজার থেকে বিশাল মাদকের চালান যাত্রীবাহী বাসে করে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে ঠাকুরদিঘী বাজারের টাইম ক্যাফে রেস্টুরেন্টের সামনে একটি চেকপোস্ট বসায় র্যাব। এসময় হানিফ পরিবহনের একটি লোকাল বাস থেকে নামার পর সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক বহনের কথা অস্বীকার করলেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তাদের পেটের ভেতর ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে।
র্যাব জানায়,আটকের পর তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসকরা এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে,চারজনের পেটের ভেতরেই অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি রয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাদের পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবার ছোট ছোট পোটলাগুলো বের করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারিরা জানায়,তারা দীর্ঘ দিন ধরে এই পদ্ধতিতে মাদক পাচার করে আসছে।ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো প্রথমে পলিথিনে মুড়িয়ে কসটেপ দিয়ে ছোট ছোট পোটলা তৈরি করা হয়।এরপর কলা ও পাউরুটির সাহায্যে এগুলো গিলে পেটে জমা করে। তারা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই পোটলাগুলো পেটে বহন করে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা বেশি করে সবজি দিয়ে ভাত এবং বিশেষ সিরাপ সেবন করে মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করে আনে।র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা দিন দিন অত্যন্ত জঘন্য ও নোংরা কৌশল অবলম্বন করছে।এই ইয়াবাগুলোই পরবর্তীতে সাধারণ মাদকসেবীরা গ্রহণ করছে।যুবসমাজকে সচেতন করতে মাদক ব্যবসায়ীদের এই কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড সমাজের সামনে তুলে ধরা জরুরি।র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ.ম ফারুক বলেন,গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতকানিয়া থানার হস্তান্তর করা হয়েছে।তাদের এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে র্যাব।
আপনার মতামত লিখুন :