ad728

ছাতকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সং'ক'টে'র কারণে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যা'হ'ত


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

ছাতকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত  
সেলিম মাহবুব, ছাতকঃ

ছাতক উপজেলার সিংচাপইড়  ইউনিয়নের  সৈদেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষক পদ ৫ টি হলেও দীর্ঘদিন ধরে ১টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরত ছিলেন ৪ জন শিক্ষক। 

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) থেকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশ ডেপুটেশনে বুড়াইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করায় বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ জন।

এদিকে কর্মরত তিনজন শিক্ষকের মধ্যে মাওলানা কবির আহমদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মাঝেমধ্যে চিকিৎসাধীন থাকেন এবং নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না বলে জানা গেছে। ফলে কার্যত দুইজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 

এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আ’শ’ঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রু’ত শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ডেপুটেশনে যাওয়া শিক্ষকের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা জাহান বলেন, “সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশের বদলি বা ডেপুটেশনের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে তিনি আজ বিদ্যালয়ে আসেননি। 

একদিকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ, অন্যদিকে শিক্ষক সং’ক’ট। বর্তমানে কর্মরত এই তিনজন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। 

বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমি ইতোমধ্যে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।  

সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশ বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ডেপুটেশনে বদলি হয়েছি। বর্তমানে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছি। 

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির দাতা সদস্য গয়াছ মিয়া তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষিকা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। 

গ্রামের মুরব্বিয়ান ও বর্তমান প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রস্তাবিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী সৈয়দ সামছুল ইসলাম কয়েছ বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা আমাকে জানিয়েছেন। 

গ্রামের সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকুল চন্দ্র দাস বলেন, রাস্তাঘাটের দুরবস্থার বিষয়টি আগে থেকেই জানি। শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করা আমার দায়িত্ব। 

সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান করা হবে। 

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রু’ত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়ন বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ