ad728

পূর্বধলায় তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

পূর্বধলায় তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন


মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোণা।

 সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার পূর্বধলাতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

টানা কর্মবিরতির কারণে আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বার্ষিক পরীক্ষা; তবে উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলায় মোট ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়-হাতে গোনা কয়েকটি বিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ স্কুলেই পরীক্ষা হয়নি।

শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শুধু পরীক্ষা নয়, নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। সকালে উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসা শিক্ষার্থীদের অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। বছরের শেষে এসে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষার দিন এভাবে ফিরে যাওয়া শিশুদের মানসিকভাবে আঘাত করছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে তিন দফা দাবি আদায় অপরিহার্য। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন এবং কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

তাদের ৩ দফা দাবিগুলো হলো: সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মফিজুল হক বলেন, “বেশিরভাগ স্কুলেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমার জানা অনুযায়ী উপজেলায় মাত্র কয়েকটি স্কুল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।”

অপরদিকে, পূর্বধলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রাজিব হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী আপাতত সব বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তার দাবি উপজেলার ১৭৫টির মধ্যে ১৫০টির বেশি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ