ad728

সাজেকগামী সড়ক প্রশস্ত হচ্ছে, কমবে দুর্ঘটনা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

সাজেকগামী সড়ক প্রশস্ত হচ্ছে, কমবে দুর্ঘটনা

জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাওয়ার সড়কটি এখন নতুন রূপ পাচ্ছে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু এই পাহাড়ি সড়কটি প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। মাত্র ১২ ফুট প্রস্থের এই সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নীত হলে দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকটাই কমে যাবে বলে আশাবাদ স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের।

রোববার সকালে সদর উপজেলার ৬ মাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াপুর এলাকা থেকে আট কিলোমিটার সড়কে বেইজের কাজ এগিয়ে চলছে। এক্সকাভেটর দিয়ে শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়কে বড় গাড়ি চলাচলে ঝুঁকি থাকায় চালকরা স্বস্তি পাচ্ছেন।




সাজেকগামী পিকআপ চালক মো. ফিরোজ বলেন, ‘একটা বড় গাড়ি গেলেই সড়কে আর জায়গা থাকে না। অন্য গাড়ি তখন সড়কের বাইরে চাকা নামাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রশস্ত সড়ক হলে এই ঝুঁকি আর থাকবে না।’

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার হলেও আঁকাবাঁকা পথে সময় লাগে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। সরু সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায় যানজট ও ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

পেরাছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নির্মল ত্রিপুরা বলেন, ‘ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক মিনিটেই তীব্র যানজট তৈরি হয়। সাজেকে যাওয়া-আসায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবার। সড়ক প্রশস্ত হলে আর এমন কষ্ট থাকবে না।’

খাগড়াছড়ি–দীঘিনালা ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মিত হয় ১৯৮০ সালে। সময়ের সঙ্গে সড়কের প্রস্থ ও বাঁকের জটিলতা যান চলাচলে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত জেলা মহাসড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত হলেও এই সড়কটি এখনো ১২ ফুট প্রস্থের।

দীঘিনালার নয়মাইল এলাকার ইউপি সদস্য ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, ‘মালবাহী ট্রাক সামান্য সড়কের বাইরে গেলেই উল্টে যায়। তখন ঘন্টার পর ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। প্রশস্ত সড়ক হলে এই সমস্যাগুলো থাকবে না।’

নয়মাইল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক ধরে হেঁটে স্কুলে আসে। সরু সড়কে দুর্ঘটনার ভয় ছিল সবসময়। প্রশস্ত সড়ক হলে তাদের চলাচল অনেকটা নিরাপদ হবে।’

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের বাঁকগুলো সোজা করার চেষ্টা করছি। এজন্য সড়কের দুই পাশ বা এক পাশে ছয় ফুট করে প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগামী ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।”

এই সড়ক দিয়েই খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু এবং সাজেক ইউনিয়নে পর্যটকরা যাতায়াত করেন। সরু ও বিপজ্জনক এই সড়ক সম্প্রসারণ ও বাঁক সরলীকরণ শেষে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে সাজেকগামী পথ।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ