ad728

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: দুর্বলতার সমাধি থেকে দেশের ব্যাংক খাতে শক্তিশালী সত্তার জন্ম


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক:

দুর্বলতার সমাধি থেকে দেশের ব্যাংক খাতে শক্তিশালী সত্তার জন্ম

মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন
 
আর্থিক সংকটাপন্ন ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি'  নামে একটি একক, রাষ্ট্র-সমর্থিত আর্থিক সত্তা গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছে । ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে  এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২.২০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদবিশিষ্ট  একটি মেগা ব্যাংকের জন্ম হবে। এই বিশাল আকার ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এটিকে দেশের ব্যাংক খাতের অন্যতম বৃহৎ এবং কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো এই ব্যাংকগুলোর ৭৫ লাখেরও বেশি  আমানতকারীর সঞ্চয় সুরক্ষিত করা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাজনিত দুর্বলতা দূর করে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনা । এই একীভূতকরণের উদ্যোগটি শুধু অভ্যন্তরীণ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো বহুজাতিক সংস্থার ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা ও মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়ানোর শর্ত পূরণের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। নতুন ব্যাংকটি প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন 'ব্রিজ ব্যাংক'  হিসেবে পরিচালিত হবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আমানতকারীদের মধ্যে দ্রুত আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

এই একীভূতকরণের পদক্ষেপ অনিবার্য ছিল, কারণ সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিপর্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া আমানতকারীদের সুরক্ষা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এক বছরের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও  ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি, প্রভিশন ঘাটতি এবং তারল্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছিল না । এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি বিনিয়োগ বা ঋণের হার (Non-Performing Advance - NPA) ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৯৬ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নন-পারফর্মিং অ্যাডভান্সের হার ছিল, যা দেশের গড় খেলাপি ঋণের হারের তুলনায় বহুগুণ বেশি । এক্সিম ব্যাংকে ৪৮ শতাংশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৬২ শতাংশ খেলাপি ঋণ ছিল । এই উচ্চ হার স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ব্যাংকগুলো 'অকার্যকর' হয়ে পড়েছিল এবং 'ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫' অনুযায়ী সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল । সংকটের মূলে ছিল সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীভিত্তিক ঋণ বিতরণ এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সের চরম ব্যর্থতা । পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে এক্সিম ব্যাংক সর্বোচ্চ সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা, এসআইবিএল ৬ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা ও ইউনিয়ন ব্যাংক ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিতে বাধ্য হয়েছিল । এই ঋণের পরিসংখ্যানই দেখায় যে ব্যাংকগুলো নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারছিল না। যদি এই পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে একটিও ভেঙে পড়তো, তবে তা আমানতকারীদের পাশাপাশি পুরো আর্থিক খাতের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনত ।

নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে সত্যিকারের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার একটি বিশাল মূলধনী কাঠামো তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হবে আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা । এই মূলধন দেশের ব্যাংক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার মূলধন হিসেবে সরবরাহ করবে, যা নগদ ১০ হাজার কোটি এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে প্রদান করা হবে । এটি নতুন ব্যাংকের প্রাথমিক তারল্য নিশ্চিত করবে। তবে সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো 'বেইল-ইন' (Bail-in) প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের আমানত শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে । এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো বড় আমানতকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি বহনে অংশীদার করা, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে । যদিও সংখ্যাগতভাবে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন ব্যাংকটিকে বৃহৎ আকার দেবে, তবে এর একটি বড় অংশ বিগত দুর্নীতিজনিত ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হবে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তখনই প্রকৃত শক্তিশালী হবে, যখন এই অর্থ ব্যবহার করে সফলভাবে লাভজনক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা নির্ভর করছে পূর্বের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ওপর।
এই মেগা-মার্জারের মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তবে শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে ২ লাখ টাকার মধ্যে থাকা সঞ্চয়কে 'সুরক্ষিত আমানত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং একীভূতকরণের সঙ্গে সঙ্গেই এই ৭৫ লাখেরও বেশি  ক্ষুদ্র আমানতকারীর অর্থ অবিলম্বে পরিশোধ করা হবে । তবে ২ লাখ টাকার বেশি আমানতকারীদের ক্ষেত্রে পাওনা পরিশোধে সময় লাগবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রোডম্যাপ অনুযায়ী, তারা ধাপে ধাপে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন । এ ছাড়া বড় আমানতকারীদের আমানতের ২০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে । অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এটি বড় বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে যেহেতু একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য এখন ঋণাত্মক (ফেস ভ্যালু ১০ টাকার বিপরীতে ঘাটতি ৪৫০ টাকা পর্যন্ত), তাই শেয়ারগুলো 'কার্যতঃ মূল্যহীন'। ফলস্বরূপ, সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা নতুন ব্যাংকে কোনো অংশীদারিত্ব বা ক্ষতিপূরণ পাবেন না । 

নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বিশাল সাংগঠনিক ও প্রযুক্তিগত একীকরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। একীভূত ব্যাংকটির প্রায় ৭৫০ শাখার  একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকবে, যার শাখা ও অতিরিক্ত জনবল পুনর্বিন্যাস করাই হবে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বাস দিয়েছে যে একীভূত হওয়ার পর প্রথম তিন বছর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হবে না । অতিরিক্ত জনবলকে গ্রামীণ অঞ্চলে শাখা সম্প্রসারণের জন্য স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । তবে পাঁচটি ভিন্ন ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো, ট্রেজারি কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে একীভূত করা একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, যা বাস্তবায়নে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে । অতীতের ব্যর্থ অভিজ্ঞতা (যেমন বিডিবিএল গঠন) দেখায় যে সাংস্কৃতিক এবং অপারেশনাল সমন্বয় ব্যর্থ হলে পুরো প্রক্রিয়াটিই মুখ থুবড়ে পড়ে। পুরোনো পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্বল ব্যাংকের পরিচালকদের পরবর্তী পাঁচ বছর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে । 
এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শুধু বিশাল আকারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংককে পুনর্গঠন বা একীভূত করার প্রচেষ্টা (যেমন ওরিয়েন্টাল ব্যাংককে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক বা শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থাকে বিডিবিএল-এ একীভূত করা) ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে বিডিবিএল-এর খেলাপি ঋণের হার এখনও ৪২.৪৫ শতাংশ । দুর্বল ব্যবস্থাপনায় বিপুল সরকারি অর্থ (২০ হাজার কোটি টাকা) ঢালা হলে দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে । ব্যাংকটিকে সত্যিকারের শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই পূর্বের 'সংকটাপন্ন সম্পদ' (Stressed Assets), যা মোট ঋণের প্রায় ৪৫ শতাংশ, তা থেকে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই নন-পারফর্মিং লোনগুলো একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (AMC) কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে , তবে কঠোর ব্যবস্থা, জামানত বিক্রি এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া অপরিহার্য । সরকার যেহেতু সংকুচিত বাজেটে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে , তাই এই ব্যাংকের দ্রুত লাভজনক হওয়া দেশের অন্যান্য জনসেবা খাতে সরকারি অর্থের চাপ কমাতে সাহায্য করবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাংকিং খাতকে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখা । এই কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে না পারলে, কেবল আর্থিক সহায়তা দিয়ে দুর্বল ব্যাংককে একটি নতুন দুর্বল ব্যাংকে রূপান্তর করা হতে পারে।

সার্বিক বিবেচনায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগটি দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি আশাবাদী পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে ব্যাংকটি 'দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক' হিসেবে তখনই প্রতিষ্ঠা পাবে, যখন এর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য প্রয়োজন—ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, আন্তর্জাতিক অডিট সংস্থার মাধ্যমে হিসাব যাচাই এবং মিডিয়ার কাছে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। পুরনো পরিচালকদের ব্যর্থতার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। এই ব্যাংক প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত তত্ত্বাবধানে থাকলেও পাঁচ বছরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে । এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ডের মাধ্যমে করতে হবে, যাতে নতুন বেসরকারি মালিকরা অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি আর্থিক সেতু (Bridge Bank) থেকে সত্যিকারের শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, কেবল পুঁজি ঢালাই নয়, বরং দুর্নীতির পুরনো সংস্কৃতি ভেঙে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
Email : msislam.sumon@gmail.com

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ