ad728

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬: একটি বিপর্যস্ত জনপদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তির মহাযজ্ঞ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬: একটি বিপর্যস্ত জনপদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তির মহাযজ্ঞ
মো. সাহিদুল ইসলাম সুমন
 
চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাই উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্র যখন নিজের অস্তিত্বের সংজ্ঞায় এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ‘ইশতেহার ২০২৬’ নামক এক বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা জাতির সামনে হাজির করেছেন। এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার গতানুগতিক দলিল নয়, বরং গত দেড় দশকের রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক শ্বাসরোধের পর এক নতুন সামাজিক চুক্তির নামান্তর। ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ইশতেহারটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক—সেটি মুদ্রাস্ফীতি হোক বা রিজার্ভের ক্ষয়িষ্ণু দশা—আমাদের এক গভীর অন্ধকারের দিকে ইশারা করছে। এই রূপরেখার পরতে পরতে যেমন ছড়িয়ে আছে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার, তেমনি এতে প্রতিফলিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে সমতলের প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার এক সুদূরপ্রসারী দর্শন। একজন লেখক ও গবেষক হিসেবে যখন আমি এই দলিলের গভীরে প্রবেশ করি, তখন দেখি এটি আসলে একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের নকশা, যা প্রচলিত ক্ষমতার ভারসাম্যকে সমূলে বদলে দিতে চায়।
এই ইশতেহারের সবচেয়ে সাহসী এবং তাত্ত্বিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হলো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য আনা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ঘোষণা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতা চিরকালই এককেন্দ্রিক হয়ে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারের জন্ম দিয়েছে, যা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রকে জনবিচ্ছিন্ন করে তোলে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সময়সীমা টানা দুই মেয়াদ বা দশ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার যে প্রস্তাব এখানে রাখা হয়েছে, তা মূলত দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার আসক্তি থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার একটি রক্ষাকবচ। অর্থনীতির দৃষ্টিতে দেখলে, ক্ষমতার এই বিকেন্দ্রীকরণ সরাসরি বিনিয়োগের পরিবেশকে স্থিতিশীল করে। কারণ যখন একটি দেশে ক্ষমতার পালাবদল সুনিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক হয়, তখন দীর্ঘমেয়াদী দেশি ও বিদেশি পুঁজি সেই বাজারে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। উচ্চকক্ষ বা আপার হাউজ তৈরির পরিকল্পনাটি সংসদীয় বিতর্কে এক ধরণের পেশাদারিত্ব ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাবে, যা আগে কেবল সংখ্যার জোরে পাস হওয়া অযৌক্তিক আইনগুলোকে প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি করবে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের বুদ্ধিজীবী মহলে আলোচিত হলেও কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল এভাবে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়নি, যা এই ইশতেহারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠন নিয়ে ইশতেহারটিতে যে গভীরতা দেখা যায়, তা বর্তমানের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। গত এক দশকে খেলাপি ঋণের নামে যেভাবে জনমানুষের আমানত লুণ্ঠন করা হয়েছে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের যে মহোৎসব চলেছে, তাকে রুখতে ইশতেহারে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেবল করের হার কমানো বা বৃদ্ধি নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ইশতেহারে উল্লিখিত ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং ‘ওপেন গভরমেন্ট পার্টনারশিপ’ এই স্বচ্ছতারই প্রতিফলক। বাংলাদেশে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই দেখেছি উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে প্রশাসনিক অপচয় বেশি হয়। বিএনপির এই প্রস্তাবিত সংস্কারে প্রতিটি সরকারি খরচের বিপরীতে গুণগত মানের যে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে, তা কার্যকর হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে এক ধরণের মৌলিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য যে ঋণ সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মূল ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের বর্তমান বেকারত্বের হার এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মহীনতার যে ভয়াবহ পরিসংখ্যান আমাদের সামনে রয়েছে, তাতে কেবল মেগা প্রজেক্ট দিয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন ছিল এমন একটি বটম-আপ অ্যাপ্রোচ বা নিচ থেকে উপরে যাওয়ার কৌশল, যা এই ইশতেহারে পরিলক্ষিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক হিসেবে আমার কাছে এই ইশতেহারের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পাহাড় সবসময়ই কেবল এক ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যেখানে মানুষের আবেগ আর অধিকার গৌণ ছিল। কিন্তু এই ইশতেহারে ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’ এই পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে ডাক দেয়া হয়েছে, তা পাহাড় এবং সমতলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট ঘোচাতে সহায়তা করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ এবং সমতলের অন্যান্য জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারবে না। ইশতেহারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার যে কথা রয়েছে, তা সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা বৃদ্ধির সাথে সম্পৃক্ত। উন্নয়ন যখন ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানের স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তখনই পাহাড়ের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। এই ইশতেহারে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের পথে একটি বড় ধাপ।
সুশাসনের প্রশ্নে ইশতেহারটি অত্যন্ত কঠোর এবং প্রাঞ্জল। পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনাটি বর্তমানে অতি প্রয়োজনীয়। পুলিশের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে একে একটি স্বাধীন কমিশন বা আইনের শাসনের অধীনে নিয়ে আসার যে প্রস্তাব, তা মূলত নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের গ্যারান্টি। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা আমরা অনেক শুনেছি, কিন্তু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগের যে নীতিমালা এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পথ চিরতরে বন্ধ করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদককে সত্যিকার অর্থে দন্তযুক্ত বাঘে পরিণত করার যে ইচ্ছা এখানে প্রকাশ পেয়েছে, তা দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশা জাগানিয়া। কারণ দুর্নীতির ক্যানসার এই রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারি সেবা পেতে মানুষকে আর দালালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি যেভাবে এই দলিলে গুরুত্ব পেয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক সমাজকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলবে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই ইশতেহারটি একটি বিশেষ মর্যাদা দাবি করে। শহীদ পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা বিভাগ গঠনের প্রস্তাবটি কেবল আবেগী নয়, বরং এটি ইতিহাসের এক ধরণের দায়মুক্তি। এই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে, রাষ্ট্র যদি জনগণের না হয়, তবে সেই রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। ইশতেহারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং আধুনিক একটি ধারণা। দক্ষিণ আফ্রিকা বা অন্যান্য দেশে আমরা দেখেছি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন ও ক্ষত মুছতে এমন একটি কমিশন কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশে গত দেড় দশকে যে পরিমাণ গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একটি জাতীয় মনস্তাত্ত্বিক শুশ্রূষা। এই কমিশনের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি প্রদান করা গেলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চিরস্থায়ী অবসান ঘটা সম্ভব হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আগামী পঞ্চাশ বছর হবে সমৃদ্ধির।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ইশতেহারটিতে যে গভীর বিশ্লেষণের অভাব ছিল আগেকার সময়গুলোতে, এবার তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। জাতীয় আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা মূলত একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্ত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকার ভাতার মতো যুগান্তকারী চিন্তাভাবনা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে। কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফসলের নায্যমূল্য এবং ভর্তুকির সঠিক বণ্টন কৃষিনির্ভর এই অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইশতেহারটিতে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের যে কথা বলা হয়েছে, তা একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতির পরিচায়ক। বিশেষ করে তিস্তা পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
তবে এই বিশাল সংস্কার পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র সংস্কারের এই সুবিশাল মহাযজ্ঞ সম্পাদনের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সংস্থান এবং প্রশাসনিক দক্ষতা প্রয়োজন, তা বর্তমানের ঋণগ্রস্ত অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কঠিন। ইশতেহার ২০২৬-এ অনেক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাতে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা দরকার। রাজনীতির মাঠের বিভাজন এবং স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা অতিক্রম করে এই রূপরেখাকে বাস্তবে রূপ দেয়াটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জনগণের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এই যে স্বপ্ন বিএনপি দেখিয়েছে, তার সফলতার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। এটি কেবল একটি দলের প্রতিশ্রুতি হয়ে না থেকে যদি একটি জাতীয় দলিলে পরিণত হতে পারে, তবেই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত সার্থক হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইশতেহার ২০২৬ একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী ইশতেহার। এটি কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং ক্ষমতার চরিত্র বদলের এক ঘোষণা। এতে যেমন রয়েছে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার পথচিত্র, তেমনি আছে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ সমাজ যারা এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছে এই ইশতেহারটি গভীর আলোচনার দাবি রাখে। আমরা যদি একটি বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে চাই, তবে এই ধরণের কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এই ইশতেহারটি যদি তার প্রতিটি বর্ণে ও ছত্রে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের যে হাওয়া বইছে, সেই হাওয়ায় পাল তুলে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছানোর জন্য এই রূপরেখাটি একটি কার্যকর কম্পাস হিসেবে কাজ করতে পারে। রাষ্ট্র গঠনের এই সংগ্রাম যেমন দীর্ঘ, তেমনি এর সুফলও হবে সুদূরপ্রসারী, যদি আমরা সত্যিকার অর্থেই এই পথনকশা অনুসরণ করে সামনে এগোতে পারি।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ