দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সং'ক'টে মে'ঝে'তে চিকিৎসা, খা'বা'রে'র মা'ন নি'য়ে'ও প্র'শ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা, খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন
মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগির চাপ বাড়ার পাশাপাশি এবার হাসপাতালের সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোগির স্বজনরা জানিয়েছেন-সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খাবার পাচ্ছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগির সংখ্যা বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ জন নতুন রোগি ভর্তি হচ্ছে। এতে নির্ধারিত বেডের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগি চিকিৎসা নিচ্ছে এই হাসপাতালে। ফলে অনেককেই মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। রোগি ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ-মোটা ভাত, নিম্নমানের মাছ এবং অনেক সময় খাবার খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আয়েশা বেগম নামে এক রোগির অভিভাবক বলেন, "আমার বাচ্চা তিন দিন ধরে ভর্তি। খাবার যা দেয়, সেটা ঠিকমতো খাওয়ানো যায় না। ভাত শক্ত, মাছের মান খুবই খারাপ।”
বিরল থেকে আসা ময়মনা বেগম নামে আরেক রোগির স্বজন বলেন, "চার দিন ধরে হাসপাতালে আছি। সকালে ডিম-রুটি দেয়, কিন্তু মান ভালো না। ভাত-মাছ, মাংসও নিম্নমানের। রোগির জন্য এসব খাবার একদমই উপযুক্ত না।"
এদিকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের রোগি সাইফুল ইসলাম বলেন, "খাবারের মান খারাপ, ভাত মোটা আর মাছ ঠিকমতো রান্না করা হয় না। অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়।"
একই অভিযোগ করেন মহিলা ওয়ার্ডের রোগী হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, "কোনোরকম চিকিৎসা চলছে। খাবারের মানও সন্তোষজনক না।"
শুধু খাদ্য নয়, ওষুধ সংকটের অভিযোগও রয়েছে। অনেক রোগিকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগির স্বজনেরা।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওবায়দুর রহমান বলেন, "আমরা নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করি। বড়দের জন্য ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, রুটি, কলা এবং শিশুদের জন্য দুধ, ডিম, রুটি দেওয়া হয়। হাসপাতালের নিজস্ব ঘরেই খাবার রান্না করা হয়।"
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি রোগির জন্য সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আমরা নিয়মিত খাবারের মান তদারকি করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা হয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।"
এদিকে স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত রোগির চাপ, বেড সংকট, নিম্নমানের খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতির কারণে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
আপনার মতামত লিখুন :