ad728

সাত দিনের অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক, খাদ্য-ওষুধের সংকটের শঙ্কা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

সাত দিনের অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক, খাদ্য-ওষুধের সংকটের শঙ্কা‎
‎মোঃ আসিফ ইসলাম সাইফ ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি-
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বন্ধ হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্রিক আয়-রোজগার, কমে আসছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত। একই সঙ্গে খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। দীর্ঘ অচলাবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎পর্যটকদের পদচারণে মুখর থাকা সাজেক এখন অনেকটাই নীরব। পর্যটকশূন্য রিসোর্ট-কটেজ, বন্ধের পথে রেস্তোরাঁর কার্যক্রম এবং দোকানপাটে পণ্যের ঘাটতি—সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটননির্ভর এই জনপদের অর্থনীতি। পর্যটকদের ঘিরে যাঁদের সংসার চলত, তাঁদের অনেকেই এখন আয়হীন হয়ে পড়েছেন।
‎
‎স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে আটজন কর্মচারী কাজ করেন। অবরোধের কারণে তাঁদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁর ব্যবসাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎অন্যদিকে, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মুদি দোকানি জনসিম চাকমা জানান, তাঁর দোকানে চাল ও চিনি শেষ হয়ে গেছে। আশপাশের দোকানগুলোতেও ডাল, সয়াবিন তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত কমে আসছে। গত ২১ অক্টোবরের পর থেকে পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
‎
‎খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, শিশু ও প্রসূতি নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‎
‎এদিকে, সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও অবরোধকারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতার কথা জানানো হলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ফলে অব্যাহত রয়েছে সড়ক অবরোধ, থেমে আছে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা।
‎
‎এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অসুস্থ রোগীদের নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
‎
‎সাজেকের মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরাজমান সংকটের সমাধান করবে। স্বাভাবিক হবে সড়ক যোগাযোগ, সচল হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, ফিরবে পর্যটকদের পদচারণ। দাবি-দাওয়ার সমাধানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা এখন নতুন করে সামনে এসেছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ