ad728

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের খামারের জায়গায় প্রকল্পের নামে ৩ হাজার গাছ কর্তন।


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের খামারের জায়গায় প্রকল্পের নামে ৩ হাজার গাছ কর্তন।

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টার 

উত্তরবঙ্গের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতায় ঈশ্বরদী মুলাডুলি খামারের জমিতে বিএডিসির পানি সেচ প্রকল্পের আওতায় ভ্যালী ইরিগেশন নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। নিলাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

খামারের উক্ত স্থানের ৩০০০ হাজার গাছ কেটে একে অপরের দোষারোপ করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি খামার এলাকার মূল্যবান মেহগনি, শিশু,খয়ের, খেজুর গাছসহ বহু বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নিয়ম রয়েছে বনবিভাগ থেকে মূল্য নির্ধারণ করিয়ে , কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করতে হবে ।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারী ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিনের কাছে জানতে চাইলে বলেন কিছু গাছ কাটা হয়েছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আগুন হিটের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকাবাসী, মিল ও দেশ উপকৃত হবে।

এলাকার একাধিক কৃষক জানান, ভ্যালী ইরিগেশন প্রকল্পের নামে যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে, তা প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় অসঙ্গত ও অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে। খামারের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। অনুমোদন বিহীনভাবে গাছ কাটলে তা পরিবেশ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কোন বিশেষ প্রয়োজনে একান্তই যদি গাছগুলো কাটার প্রয়োজন হয় তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যনির্ধারণ, দরপত্র সহ সকল প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করে তবেই সেটা করা উচিৎ। কিন্তু ইক্ষুর আড়ালে হাজারো গাছ কেটে সাবার করে দিয়ে ঠিক করেন নাই। 

স্থানীয় লোকজন কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন সরদারপাড়া থেকে ১০ নাম্বার সেক্টর পর্যন্ত এবং কেনাল কাটা হয়েছে কেনালের পাশ দিয়ে অনেক মেহগনি, শিশু, রেন্টি কড়াই, খেজুর মিলে ৩০০০ হাজার বেশি গাছ কাটা হয় বলে জানান । 

এ বিষয়ে সুগার মিলের জিএম প্রশাসন আনিসুর রহমানের অফিস কক্ষে দেখা করতে গিয়ে অফিসে তালাবদ্ধ ছিল। পরে একই অবস্থা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন স্যার এখন নেই। পরে একপর্যায়ে ব্যবস্থাপকস্থাপনা পরিচালক গণমাধ্যম কর্মীদের ডেকে নিয়ে অফিস কক্ষে বসিয়ে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি । তিনি বলেন খামারি প্রধান আছেন তার সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করুন তিনি বিষয়টি ভালো করে অবহিত করতে পারবে। 

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের জিএম খামারী প্রধান বাকী বিল্লাহ সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে, তারপর মোবাইলের কল দিয়ে কোন উত্তর মেলেনি। 

কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) ঈশ্বরদী জোন, সুমন চন্দ্র বর্মন তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা আপনারা বিএডিসি জেলার প্রধান কর্মকর্তা আছেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন । (বিএডিসি পাবনা) নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ তার সঙ্গে একাধিকবার  মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোটো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়  ।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ