ad728

ইয়ুথ ভলানটিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন মাগুরার আক্কাস খান


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

ইয়ুথ ভলানটিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন মাগুরার আক্কাস খান
জেলা প্রতিনিধি, মাগুরা 
ইয়ুথ ভলানটিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন মাগুরার আক্কাস খান
প্রধান উপদেষ্টার হাত থেকে ‘ইয়ুথ ভলানটিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ গ্রহণ করলেন মাগুরার প্রতিবন্ধী আক্কাস খান। যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে অসাধারণ অবদানের জন্য জনাব মো. আক্কাস খান এ পুরস্কার অর্জন করে।

মাগুরা সদরের আঠারোখাদা ইউনিয়নের নালিয়ার ডাঙ্গা গ্রামে বাড়ি কৃষক আক্কাসের। জন্মের পর থেকেই দু’পা দিয়ে  কাজ করতে অক্ষম তিনি। জন্মগত পঙ্গু হওয়ার ফলে শিশুকাল থেকে আক্কাস আর হাঁটতে পারেননি। কাঠের ক্র্যাচে ভর দিয়ে এসএসসির গণ্ডি পার হয় আক্কাসের। দৃঢ় মনোবল ও মনের তীব্র ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আক্কাস এখন দেশের মডেল কৃষক। 

স্বজনদের কাছে জানা যায়, আক্কাসের শিশুকাল থেকে পরিবারকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন- এটা পোলিও রোগ। কোনোভাবে তার এ দুটো পা আর ভালো হবে না। তারপরও তারা ভারতে নিয়ে তাকে দেখিয়েছেন কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা বলেছেন এটা আর ঠিক হবে না। অন্যের কাছে হাত না পেতে সে নিজের চেষ্টায় বড় হয়েছে। লাঠি ভর দিয়ে সে মাঠে  যায়। কাজ করে ফসল ফলায়, তারপর বিক্রি করে। বর্তমানে  তার সংসারে দুটো সন্তান। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সে কাজ করে। 

কৃষক আক্কাস বলেন, চিকিৎসকরা যখন বললো আর পা দুটো ভালো হবে না, তখন মনোবল পুরোপুরি  হারিয়ে ফেলি। পরে পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা আমাকে নানাভাবে মনোবল দিতে থাকে। স্কুল জীবন থেকে কলেজ জীবনে যাই। কিন্তু আর কলেজ জীবন শেষ করতে পারিনি। এক সময় এক কৃষি কর্মকর্তা আমাকে পরামর্শ দেন তুমি আইপিএম কৃষি প্রশিক্ষণ করে কৃষিকাজে মনোযোগ দিলে ভালো করবে। তার পরামর্শে আমি আইপিএম কৃষি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করছি। এরপর ২০১৮ সালে প্রতিবন্ধী ভাতার ৮ হাজার টাকা দিয়ে নিজের সামান্য কিছু জমিতে শুরু করি মিষ্টি কুমড়ো চাষ। মাত্র ২৮শ’ টাকা খরচ করে আমি সে বছর কুমড়ো বিক্রি করি ৪০ হাজার টাকার। বর্তমানে আমি নিজের জমি ছাড়াও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে প্রায় ৪০ শতক জমি চাষ করি। প্রতি বছর একই জমিতে আমি ৪টি ফসল চাষ করি। প্রথমে পাট আবাদ করি। পাট কেটে সেই জমি চাষ দিয়ে লাগাই মিষ্টি কুমড়ো। মিষ্টি উঠে গেলে জমি প্রস্তুত করে সেখানে খিরা লাগাই। সর্বশেষ জমিতে রোপণ করি পিয়াজ। এইভাবে আমি নিজে পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জন করেছি।

আক্কাসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক মনোনয়ন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পুরস্কার প্রাপ্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় মাগুরা জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত ছিলো।তার এ অর্জন মাগুরা জেলার জন্য অন্যান্য গৌরব ও আনন্দের উপলক্ষ্য। 

উল্লেখ্য, ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার  যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মোট ৫ ক্যাটেগরিতে ১২ জনকে"ইয়ুথ ভলানটিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫" প্রদান করা হয়েছে। আক্কাস খান  প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে  তার হাত থেকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং এক লক্ষ টাকার চেক গ্রহণ করেন।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ