ad728

গণভোটের রায় অ'গ্রা'হ্য করলে রাজপথ ও সংসদে ক'ঠো'র আ'ন্দো'ল'নে'র হুঁ'শি'য়া'রি জামায়াত আমিরের


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে রাজপথ ও সংসদে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জনঐক্যের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণের গণভোটের রায় ও সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করা হলে রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছে, তা উপেক্ষা করা মানে ২০ কোটি মানুষকে অপমান করা।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার ও গণভোটের অঙ্গীকার থেকে সরে এসে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগসহ নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

সমাবেশে তিনি ১৬ দফা সংস্কার অধ্যাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দেশব্যাপী গণআন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে তিনি বলেন, “দেশে এখন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি মহাউৎসবে পরিণত হয়েছে।” তিনি প্রশাসন ও আর্থিক খাতে দলীয়করণের সমালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ পিএসসি এবং গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।” তিনি গুম কমিশন গঠনে সরকারের অনীহারও সমালোচনা করেন।

উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পদ্মা-তিস্তা সহ ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “লোক দেখানো আশ্বাস নয়, জনগণ তাদের ন্যায্য পানির অধিকার চায়।”

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।”

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জনগণের উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জান দেব কিন্তু দেশের মান দেব না।” দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।

রাজশাহীর এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের বরেণ্য রাজনৈতিক, ইসলামী ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ কর্নেল অলি আহমেদ, জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি সারজিস আলম।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম বুলবুল ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা কেরামত আলী ও ডা. ইমাজ উদ্দিন মন্ডল।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রাকিব, আবু তালেব মন্ডল এবং প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসেন সহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার আমির ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। তারা নিজ নিজ জেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন এবং চলমান আন্দোলন, গণমানুষের অধিকার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ