নির্বাচনের আগে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন করেও বাজেটে ১০ টাকারও বরাদ্দ রাখেন নাই
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন করেও বাজেটে ১০ টাকারও বরাদ্দ রাখেন নাই: রংপুরে ডা. শফিকুর রহমান
রংপুর ব্যুরো:
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। আজ ১১ জুলাই শনিবার বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করেন। জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমাদের কথা পরিষ্কার, আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লাড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো। আমাদের দাবি থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না। আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যস্ত ব্যক্ত করে গেলাম। শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই। তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুড়ি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে। সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা সেই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয় সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের অর্জন শূন্য। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই। নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে আর কোনো ঋণ দেবে না। পৃথিবীর কোনো দেশই তাদেরকে সহযোগিতা করবে না। চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও নেতাকর্মীদের ঢল নেমে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দলে দলে মিছিল নিয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছে লাখো মানুষ। শনিবার দুপুর আড়াইটার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও তাতে ভাটা পড়েনি জনস্রোতে। ছাতা, পলিথিন কিংবা ভেজা কাপড়েই নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃষ্টি যেন উল্টো তাদের উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমাবেশ কেন্দ্র কওে শনিবার সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের। দুপুর গড়িয়ে আকাশ মেঘলা হলেও তাতে ভাটা পড়েনি। দুপুর আড়াইটার পর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সমাবেশের মাঠে অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাদের বক্তব্য শুনছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, মহানগর জামায়াতে ইসলামীন আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, এবি পার্টির রংপুর মহানগর সাধারণ স¤পাদক মাহবুবার রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির রংপুর মহানগর সভাপতি শামসুদ্দিন রাজা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এম. শরিফুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
আপনার মতামত লিখুন :