ad728

পাঁচ মাসেই ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব,২০ শতাংশ বাস্তবায়নের পথে


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

পাঁচ মাসেই ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব,২০ শতাংশ বাস্তবায়নের পথে

ডেস্ক রিপোর্ট 

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই বাংলাদেশে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, যার প্রায় ২০ শতাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর, জমি ইজারা এবং বরাদ্দপত্র চূড়ান্তকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশে বিনিয়োগের একটি ইতিবাচক ও শক্তিশালী প্রবাহ নির্দেশ করছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লোগো
মঙ্গলবার রাজধানীর বিডা অডিটোরিয়ামে বিনিয়োগ বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই তথ্য জানায়। বিডার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর (এসইজেড) প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে, যা সরকারের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্য অনুযায়ী, বাকি প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে অনুসন্ধানী বা যথাযথ যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক আলোচনা এবং প্রকল্প পরিকল্পনার মতো কাজগুলো অন্তর্ভুক্ত। নাহিয়ান রহমান রোচি এটিকে বৃহৎ বিনিয়োগের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ প্রস্তাবই অনুসন্ধানী পর্যায় থেকে শুরু হয় এবং সঠিক সহায়তা পেলে ধীরে-ধীরে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়।’ অবশিষ্ট প্রায় ২০ শতাংশ প্রস্তাব বর্তমানে গভীর পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক নথিপত্র তৈরির আগের ধাপ।


এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাবকে বাস্তবে রূপান্তর করতে সরকারও নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিনিয়োগকারীদের প্রক্রিয়া সহজ করতে বেজা একটি ‘ইউনিফাইড ইনভেস্টমেন্ট পোর্টাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই পোর্টালে বিনিয়োগের অগ্রগতি, জমির প্রাপ্যতা এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘এ পোর্টাল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং প্রশাসনিক ফলোআপের সময় কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি এটি বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা দেবে।’

শুধু তাই নয়, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বেজা আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সহায়তায় একটি বিশেষ গবেষণা ইউনিটও চালু করেছে। এই ইউনিট রাবার, আসবাবপত্র, ওষুধশিল্প এবং পর্যটনের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে।

তবে কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রস্তাব পাওয়া উৎসাহব্যঞ্জক হলেও মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেগুলোকে কার্যকর প্রকল্পে পরিণত করা। মো. নজরুল ইসলামের মতে, জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারলেই আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতিতে এই বিনিয়োগের সুফল দেখা যাবে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ