ad728

স্কাউটসে নিয়মিত কমিটি গঠনের তাগিদ এডহক কমিটি নিয়ে নতুন বিতর্ক


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

স্কাউটসে নিয়মিত কমিটি গঠনের তাগিদ: এডহক কমিটি নিয়ে নতুন বিতর্ক


স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ শরিফ হোসেন 
৩৬ জুলাই পত্রিকা রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 
স্কাউটসে নিয়মিত কমিটি গঠনের তাগিদ: এডহক কমিটি নিয়ে নতুন বিতর্ক
বাংলাদেশ স্কাউটসের নেতৃত্ব নির্বাচনে নিয়মিত কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে বারবার এডহক কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এডহক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে যথাক্রমে সভাপতি ও প্রধান জাতীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বারবার সোস্যাল মিডিয়ায় Scouts Network BD ফেইসবুক পেইজে পোস্ট এ দেখা যায় , মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে বাংলাদেশ স্কাউটস। বার বার মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া এডহক কমিটি স্কাউটসের গঠনতান্ত্রিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে একটি স্থায়ী ক্ষমতার কৌশলে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় সংগঠনের নেতৃত্ব বিকাশ থমকে গেছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই  রিপোর্ট গুলো প্রকাশের পর বঙ্গভবন থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নিয়মিত কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রধান জাতীয় কমিশনারের দায়িত্বও একজনকে অর্পণ করা হয়েছে। অথচ এর আগে কোন আদেশে দায়িত্ব না পেলেও নিয়ম লংঘন করে এডহক কমিটির সদস্য সচিব মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রধান জাতীয় কমিশনারের সকল সুযোগ-সুবিদা ভোগ করছিলেন, যা ডেইলি সানের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিলো।   

বঙ্গভবনের প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে বাংলাদেশ স্কাউটসের কমিশনার (নারায়নগঞ্জ) ফজলুল হক মন্টু বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এর ১১ সেপ্টেম্বর এর প্রজ্ঞাপনই প্রমাণ করে আমরা যারা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম তারা সবাই সঠিক কথাই  বলেছিলাম। এই প্রজ্ঞাপন এটাই প্রমাণ করে যে, ৩০ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এডহক কমিটির সদস্য সচিব বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান জাতীয় কমিশনার এর যে সকল প্রটোকল ভোগ করেছেন ও নথিপত্র স্বাক্ষর করেছেন, তা অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক ছিলো।’

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এডহক কমিটি কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে এবং সীমিত সময়ের জন্য গঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন এডহক কমিটি বহাল রেখে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার অভিযোগ উঠেছে। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলছেন, এটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দেখিয়ে বারবার এডহক কমিটি চালু রাখলে সংগঠনের মৌলিক চরিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।

তৃণমূল সদস্যদের অভিযোগ, এডহক কমিটির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক সুবিধা কুক্ষিগত করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম স্কাউটিংয়ের আসল চেতনা— সততা, স্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছাসেবকতা— থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

অভিজ্ঞ স্কাউট নেতারা মনে করেন, নিয়মিত কাউন্সিল আহ্বান করে বৈধ নেতৃত্ব নির্বাচনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ স্কাউটসের সাবেক জাতীয় উপকমিশনার জামাল হোসেন বলেন, ‘এডহক কমিটির ওপর নির্ভরতা বন্ধ করতে হবে, নইলে এ সংগঠন গণতন্ত্রবিমুখ এক প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিণত হবে।’

স্কাউট আন্দোলনের শক্তি তার স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের হাতে। এডহক কমিটির অবৈধ ব্যবহার ও গঠনতন্ত্রের বাইরে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি চলতে থাকলে এই আন্দোলন শুধু বিতর্কিতই হবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আস্থাহীন হয়ে পড়বে।


এদিকে বর্তমান সদস্য সচিবকে প্রধান জাতীয় কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্কাউটসদের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। 

মোঃ শরিফ হোসেন (রোভার স্কাউটস, পাইওনিয়ার ওপেন স্কাউট গ্রুপ,  বাংলাদেশ স্কাউটস ঢাকা জেলা রোভার)  নামে একজন ফেসবুক আইডি Rover Sharif Hossen - এ মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধের প্রধান জাতীয় কমিশনার হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন,  'বাংলাদেশ স্কাউটস কে ধ্বংসের যাত্রা সুন্দর ভাবে শুরু হলো...! মীর স্নিগ্ধ ভাইয়ের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে তবে তিনি কি সত্যিই প্রধান জাতীয় কমিশনার হিসেবে থাকার যোগ্য? এই পদে আসতে হলে জাতীয় কমিশনার, উপ জাতীয় কমিশনার হিসেবে থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন করে তারপর প্রধান জাতীয় কমিশনার হতে হয়। দেশের হাজার হাজার স্কাউটস সদস্যদের সাথে যে বেঈমানি শুরু করলো মীর স্নিগ্ধ ভাই।’

'বাংলাদেশ স্কাউটস এর গঠন ও নিয়ম অনুসারে প্রধান জাতীয় কমিশনার হতে হলে জাতীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তাহলে কি বাংলাদেশ স্কাউটস এর গঠন ও নিয়ম স্থগিত করা হয়েছে?
বাংলাদেশ স্কাউটস CNC হিসেবে জনাব মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ কে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম
আমি রোভার স্কাউট মোঃ শরিফ হোসেন।  একই সাথে নিরপেক্ষ নীতিমালা প্রণয়ন করে কাউন্সিল দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
মীর স্নিগ্ধ ভাইয়ের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে তবে তিনি কি সত্যি CNC হিসেবে থাকার যোগ্য? একজন CNC হতে হলে কয়েকবার NC, DNC হিসেবে থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন করে তারপর CNC হতে হয়!

দেশের হাজার হাজার স্কাউটস দের সাথে যে বেঈমানি শুরু করলো মীর স্নিগ্ধ ভাই। জুলাই আন্দোলনের প্রতি যাদের বিশ্বাস তাদের দ্বারা এমন নিজের স্বার্থের কাজ কখনোই গ্রহন যোগ্য না। 
বাংলাদেশ স্কাউটস এর সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।  এগুলো কি সংস্কারের লক্ষণ''

বিগত সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে প্রকাশের পর প্রধান জাতীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালনের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, সেই প্রজ্ঞাপনে তারিখ ভুল রয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৭ ভাদ্র হলেও প্রজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে ২৭ শ্রাবণ। তড়িঘড়ি করে করতে গিয়ে এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন জামাল হোসেন। 

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জারি করা উপসচিব মুহাম্মদ নেসার উদ্দিন জুয়েলের স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনে এমন ভুল কাম্য ছিলো না। এদিকে এই প্রজ্ঞাপনে নিয়মিত কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের কোন আলামত দেখা যাচ্ছেনা। অথচ এই এডহক কমিটির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে শেষ হওয়ার কথা।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ