নেত্রকোনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে তালিকায় পুষ্টি, থালায় শূন্যতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নেত্রকোনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে তালিকায় পুষ্টি, থালায় শূন্যতা
মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, নেত্রকোনা।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্য সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী রোগীদের উন্নতমানের চাল, মাছ, মাংস, ডিম ও ফল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার বড় অংশই রোগীদের পাতে জুটছে না। এ নিয়ে ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কাগজ-কলমে এলাহি আয়োজন, বাস্তবে করুণ দশা
হাসপাতাল সূত্র ও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের খাদ্য তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিদিন জনপ্রতি প্রায় ১৭৫ টাকা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের বরাদ্দ রয়েছে। তালিকায় সকালের নাশতায় ডিম, কলা, পাউরুটি এবং দুপুর ও রাতে উন্নতমানের চালের ভাত, মাছ অথবা মাংস, ঘন ডাল ও সবজি থাকার কথা। বিশেষ দিনগুলোতে পোলাও ও খাসির মাংসের বিধানও রয়েছে।
তবে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এক ভিন্ন চিত্র। চিকিৎসাধীন হযরত আলী ও ফিরোজা বেগমসহ একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, সকালের নাশতায় নামমাত্র ওজনের পাউরুটি ও ছোট আকারের কলা দেওয়া হয়। দুপুরের ডালে সবজি কিংবা ডালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া ভার। এমনকি রাতের খাবার অনেক সময় ১০-১৫ জন রোগী পানই না বলে অভিযোগ উঠেছে।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
হাসপাতালের রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি মজনু ফকির অনিয়মের দায় সরাসরি ঠিকাদারের ওপর চাপিয়ে বলেন, "আজ রুই মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার পাঠিয়েছেন সিলভার কার্প। ডাল এতটাই কম দেওয়া হয় যে তা পাতলা হওয়া ছাড়া উপায় নেই। যা দেওয়া হয়, আমরা তাই রান্না করি।"
সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) মিল্টন রাকসাম খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোহরাব হোসাইন লিংকন বলেন, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী সিন্ডিকেটকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকাদারের লুকোচুরি ও প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী আলী হায়দার চৌধুরী দায় এড়িয়ে বলেন, "লাইসেন্সটি বর্তমানে অন্য একজন ব্যবহার করছেন, তাই অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত নই। এদিকে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মারফত জানতে পেরে তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, "অসুস্থ মানুষের সরকারি হক মেরে খাওয়া জঘন্য অপরাধ। স্বাস্থ্যসেবায় খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সংক্ষেপে মূল অভিযোগগুলো:
১৭৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার।
রুই মাছের পরিবর্তে কম দামি সিলভার কার্প সরবরাহ।
নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম মাংস ও অত্যন্ত পাতলা ডাল।
অনেক ক্ষেত্রে রাতে রোগীরা খাবার থেকে বঞ্চিত হওয়া।
আপনার মতামত লিখুন :