ad728

পূর্বধলায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর: বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন: ad728

পূর্বধলায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর: বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
​মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল , নেত্রকোনা | 

​নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি। এই মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
​রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট
​সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা ‘মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নিতে যান। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্পটি বন্ধ থাকায় সংসদ সদস্যের সহকারীর সঙ্গে উপস্থিত সাধারণ জনতার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি ভাঙচুর করে। উপজেলা বিএনপির দাবি, এটি একটি আকস্মিক ঘটনা এবং এর সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

​‘ভিত্তিহীন’ মামলার অভিযোগ
​বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে পুঁজি করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সময় আবু তাহের তালুকদার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
​এছাড়া মামলায় এমন ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না:

​আবু বকর রানা (৪৭ নং আসামি): গত তিন মাস ধরে ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।
​মানিক মিয়া (২২ নং আসামি): দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ।
​আব্দুল্লাহ সাকিব (৫৯ নং আসামি): পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
​বিএনপির ৪ দফা দাবি
​সংবাদ সম্মেলন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপি চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করে:
​দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
​নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

​নিরীহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও গণগ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
​রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
​"আবু তাহের তালুকদারের মতো সিনিয়র নেতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আসামি করা হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
— হাবিবুর রহমান ফকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি।
​সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ বাবুল তালুকদার, যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, সেলিম উদ্দিন, আব্দুল গফুর এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবুল কাসেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ