রাজশাহীতে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, বাধা দিতে গিয়ে ওয়ার্কশপ মালিক ছুরিকাহত
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাজশাহীতে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, বাধা দিতে গিয়ে ওয়ার্কশপ মালিক ছুরিকাহত
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি ওয়ার্কশপের মালিকের বিরুদ্ধে। এ সময় তাদের নির্যাতনে বাধা দিতে গিয়ে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে ওই ওয়ার্কশপ মালিক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার দুই তরুণ হলেন—বোয়ালিয়া থানার জোলাপাড়া লাইনপাড়া এলাকার মো. মিজান (২৫) ও ষষ্ঠীতলা এলাকার তন্ময় তেওয়ারী (২৫)। আর ছুরিকাঘাতে আহত ওয়ার্কশপ মালিক হলেন গৌরহাঙ্গা এলাকার মাসুদ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মাসুদ রানা। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাসুদ রানা পরিচালিত ওয়ার্কশপ থেকে বিভিন্ন লোহার সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়ার্কশপের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তন্ময় তেওয়ারীকে আটক করেন মাসুদ রানা। একপর্যায়ে তন্ময় চুরির ঘটনায় মিজানের সম্পৃক্ততার কথা জানান বলে অভিযোগ করা হয়।
এরপর মিজানকেও ধরে এনে তন্ময়ের সঙ্গে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় স্থানীয় দুই যুবক আল-আমিন ওরফে রিমন (২২) ও মো. শুভ (২৩) তাদের নির্যাতনে বাধা দেন। এ নিয়ে মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে রিমন পকেট থেকে চাকু বের করে মাসুদ রানার পিঠে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রিমন ও তন্ময়কে আটক করে। এ সময় শুভ ও মিজান সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মাসুদ রানার স্ত্রী শ্যামলী খাতুন বাদী হয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় দুই তরুণসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মোস্তারি বলেন, “নির্যাতনের ঘটনা জানা নেই। ছুরিকাঘাতের অভিযোগে দুজনকে পুলিশে দিয়ে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি সাহেবা।”
আপনার মতামত লিখুন :