তারেক রহমান: গণতন্ত্রের বাতিঘর ও ঐক্যবদ্ধ জাতীসত্ত্বার রুপকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
তারেক রহমান: গণতন্ত্রের বাতিঘর ও ঐক্যবদ্ধ জাতীসত্ত্বার রুপকার
মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন
২০শে নভেম্বর, বাংলাদেশের জনগণের নিকট এক অনুপ্রেরণার দিন। দিনটি বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের জন্মদিন।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক তিনি।
এই দিনটি কেবল একটি জন্মবার্ষিকী নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে এক
নির্ভীক কণ্ঠস্বরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। তিনি কোন বর্তমানে দলকে ঐক্যবদ্ধ
রেখে জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।তারেক রহমান কেবল
একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন ধারার প্রবক্তা
যেখানে তৃণমূলের ক্ষমতায়ন, যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের
দর্শন 'রেইনবো নেশন' কনসেপ্টের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
জনাব তারেক রহমান অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের একজন জননেতা। তাঁর জনসম্পৃক্ততা
কোনো আকাশচুম্বী বা বুলি সর্বস্ব বিষয় নয়, বরং এটি তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক গভীর
সংযোগ। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়িই হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। ৯০-এর দশকে যখন তিনি
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারায় সম্পৃক্ত হন, তখন থেকেই তাঁর মনোযোগ ছিল গ্রামীণ
অর্থনীতি, যুব উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের দিকে। ১৯৮৮ সালে দলের একজন
সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের আনুষ্ঠানিক
যাত্রা শুরুহয়। তাঁর 'গ্রাম-সরকার' ও 'উন্নয়নের জন্য সংসদ' ধারণাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের
মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন
যে, গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের উপরেই বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে।"
স্বজনপ্রীতি করে কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ না করে তিনি দলের তৃণমূলের
ক্ষমতায়নে মনোনিবেশ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা ইউনিটে গোপন ব্যালটের
মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্মেলন আয়োজন করেন, যা পরবর্তীতে অন্যান্য জেলা
ইউনিটকেও গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করে। তাঁর এই কর্মপন্থা প্রমাণ
করে যে, রাজনীতিতে তাঁর লক্ষ্য ছিল সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। দলের সর্বোচ্চ
পদাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, তিনি সবসময় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে
পছন্দ করেন। শত ব্যস্ততা সত্বেও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখনও তিনি হাজার
হাজার মাইল দূরে থেকে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, পরামর্শ দেন এবং দিকনির্দেশনা দেন, যা
বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দেশের সংকটে, দলের দুঃসময়ে তাঁর
কণ্ঠস্বর দেশের মানুষের মনে সাহস ও ভরসা যোগায়।
গণমানুষের রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগনের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল, দলটিকে
পুনর্গঠন করে এটিকে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিণত করার মূল কারিগর জনাব
তারেক রহমান। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ২০০৬ পরবর্তী সময়ে অবৈধ সরকারের
ক্ষমতা দখলের পর যখন দলের অনেক নেতা-কর্মী দিশেহারা, তখন তিনি দল ও কর্মীদের
মনোবল ধরে রেখেছিলেন। প্রথমে তিনি দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা, নিষ্ক্রিয় কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা এবং দলীয় কোন্দল নিরসন
করে একটি 'ওয়ানম্যান-ওয়ান পোস্ট' নীতি কার্যকর করার মাধ্যমে তিনি দলে গতি আনেন। এই
প্রক্রিয়ায় তিনি তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের সামনে নিয়ে আসেন, যা দলের মধ্যে নতুন জীবনীশক্তি
সঞ্চার করে। তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জেলা
কমিটিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করে গেছেন। তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন
যোগাযোগ এবং মনিটরিং-এর ফলেই দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা
সত্ত্বেও বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবে টিকে আছে, যা তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড়
সাফল্য। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি এখন কেবল একটি দল নয়, এটি সরকারের অগণতান্ত্রিক নীতির
বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। তাঁর সাংগঠনিক দূরদর্শিতার ফলেই আজ
বিএনপি একটি জন-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম, যা তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল
দিকগুলোর একটি।
জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দূরদর্শিতা ও আপসহীনতা। তিনি
এমন এক সময়ে দলের হাল ধরেছেন যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ। এই
কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্ব তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে: প্রথমত, দেশের মানুষের
ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের
ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যই তাঁর রাজনীতির মূলমন্ত্র। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কোনো
ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। দ্বিতীয়ত, দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা এবং
বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া তাঁর একটি বড় গুণ। সকল গণতান্ত্রিক ও সমমনা দলকে
একত্রিত করে তিনি যে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, তাবাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে
এক নতুন অধ্যায়। তৃতীয়ত, কেবল আন্দোলনের জন্য আন্দোলন নয়, বরং আগামী দিনে
বাংলাদেশকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সেই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তিনি জাতির
সামনে তুলে ধরেছেন, যা তাঁর ৩১ দফা নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
তরুণ সমাজ তারেক রহমানকে তাদের নেতা হিসেবে পছন্দ করে কারণ তিনি তাদের স্বপ্ন ও
আকাঙ্ক্ষাকে বোঝেন এবং তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েই থেমে
থাকেননি বরং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন । তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি তরুণদের হতাশা দূর
করে আশার আলো দেখায়। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তরুণদের সঙ্গে
সংযুক্ত থাকেন। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য সরাসরি লাখ লাখ
তরুণদের কাছে পৌঁছে যায়। তারেক রহমান জানেন, তরুণদের প্রধান উদ্বেগ হলো
কর্মসংস্থান। তিনি তরুণদের জন্য একটি 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরির স্বপ্ন দেখান, যেখানে
যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা অনুযায়ী সুযোগ পাওয়া যাবে, দলীয়বা পারিবারিক পরিচয়সেখানে বাধা
হবে না। তরুণ প্রজন্ম তারেক রহমানের মাঝে দেশের হারানো গৌরব ও নিজেদের জন্য একটি
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ খুঁজে পায়।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনাব তারেক রহমানের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো তাঁর ৩১ দফার কর্মসূচি, ‘রেইনবো নেশন’ কনসেপ্ট এর
উল্লেখযোগ্য দিক। এই কনসেপ্টটি মূলত সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, মত ও পথের মানুষকে নিয়ে
একটি সমন্বিত, সহনশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের এক দূরদর্শী রূপরেখা। এই ধারণাটি দক্ষিণ
আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ব্যবহৃত একটি
ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত, যা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক। তারেক রহমান এই ধারণাটিকে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুচিন্তিতভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ৩১ দফার এই কনসেপ্টে তিনি
নির্বাচন পরবর্তীকালে সকল গণতান্ত্রিক ও সমমনা দলের সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি
গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার লক্ষ্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে
সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচিতে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপরও
জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
প্রতিষ্ঠা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক
সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল। এছাড়া, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ধনী-
দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস, মেগাপ্রকল্পের দুর্নীতি রোধ, এবং সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য,
শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তিনি
'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ প্রতিবছর মানবিক কার্যক্রম,
আলোচনা এবং দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। এসব আয়োজন শুধু
আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দলের রাজনৈতিক মনোবল এবং কেন্দ্রীয়
নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ
আশা করছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে তারেক রহমান প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখলে
বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক কৌশলে নতুন গতি সঞ্চারিত হতে
পারে।সামগ্রিকভাবে, তার জন্মদিনের এই দিনটি শুধুব্যক্তিগত উপলক্ষ নয়; বরং বিএনপির
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের বিন্যাস এবং রাজনৈতিক মাঠের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে
ভাবনার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে।
জনাব তারেক রহমানের জন্মদিনটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশের গণতন্ত্র প্রায়
নির্বাসিত। তাঁর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, এবং আপসহীন সংগ্রাম লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য
প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দীর্ঘ ও বন্ধুর পথে
তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ দেশের বৃহত্তম
জনসমর্থিত আন্দোলনের প্রতীক। এদেশের জনগণ বিশ্বাস করে, তার নেতৃত্বে এবং তাঁর
নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশ দ্রুত গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, সামরিক শক্তিতে
বলিয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধ 'রেইনবো নেশন' হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচুকরে দাঁড়াবে।২০শে নভেম্বর
দিনটি সেই প্রত্যাশারই নবায়ন। জন্মদিনে দেশের আপামর জনগণের পক্ষ থেকে তার দীর্ঘায়ু,
সুস্থতা এবং দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য
দোয়া, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রইলো।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
Email : msislam.sumon@gmail.com
আপনার মতামত লিখুন :