সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনসহ ৮ দাবিতে বান্দরবানে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনসহ ৮ দাবিতে বান্দরবানে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল, রাজার সনদ বাতিল, সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, এবং তিন পার্বত্য জেলায় বৈষম্যহীন নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।
ডেস্ক রিপোর্ট
৯ অক্টোবর, ২০২৫
সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনসহ ৮ দাবিতে বান্দরবানে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
বান্দরবান সদরের হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি চেয়ারম্যান কাজী মো.মজিবর রহমান হরতালের ঘোষণা দেন। ছবি- সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের দাবিতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বান্দরবানে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল, রাজার সনদ বাতিল, সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, এবং তিন পার্বত্য জেলায় বৈষম্যহীন নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বান্দরবান শহরের হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি সম্প্রদায় যুগের পর যুগ ধরে বৈষম্যের শিকার। ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকরি, শিক্ষা ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে রাজার সনদ নামের এক প্রথাগত বৈষম্য চালু রয়েছে। এই অন্যায় বন্ধে আমরা সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেমেছি।”
কাজী মজিবর জানান, হরতালের সময় সরকারি অফিস-আদালত, কলেজ, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও খাবারের দোকান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি এবং সংবাদ পরিবহনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
৮ দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন—
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা।
২. রাজার সনদ বাতিল করে ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ে সমঅধিকার প্রদান।
৩. ৬১ জেলার মতো রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু।
৪. বাজার ফান্ড প্লটের লিজ মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা এবং বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালু।
৫. বান্দরবানসহ তিন জেলায় পরিবেশবান্ধব শিল্প ও ইটভাটা স্থাপন।
৬. আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬ সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন।
৭. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমন করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।
৮. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও চাকরিতে বৈষম্য দূর করে সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। পরবর্তী ধাপে তিন পার্বত্য জেলায় একযোগে হরতাল এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মওলানা আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহ জালাল, এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আপনার মতামত লিখুন :