সাতকানিয়ায় পুরানগড় ইউনিয়নে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ১২, এলাকায় আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সাতকানিয়ায় পুরানগড় ইউনিয়নে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ১২, এলাকায় আতঙ্ক
সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার, ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়নের মিষ্টি জসিম এবং সাকিব গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক-সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে স্থানীয় বিএনপি'র এক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে মিষ্টি জসিমের নেতৃত্বাধীন একদল লোক পাহাড়ি এলাকায় এক তরুণীকে ইফটিজিং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা সাকিবের নেতৃত্বে বাধা দিতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, জসিমের অনুসারীরা বাধা,প্রদানকারীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের মারধরের উদ্দেশ্যে কথা কাটাকাটি হলে । এ সময় গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জসিম গ্রুপ সহ উভয়পক্ষের অধিকাংশ সদস্যসহ প্রায় ১২ জন আহত হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কেরানিহাটের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো পুরানগড় ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে স্থানীয় এক নির্যাতিত ও ত্যাগী বিএনপি কর্মী জানান,একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে জসিম গ্রুপ এবং স্থানীয় কিছু বিএনপি কর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে জসিমের লোকজন মারমুখী আচরণ শুরু করে। স্থানীয় সাবেক এক বিএনপি নেতা ও জামাতের কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে জসিম এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ জসিম জামাতের কোনো সক্রিয় কর্মী নন। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাস্থলে আহত জসিমের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী কলটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, তিনি (জসিম) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার শরীরে এখন অস্ত্রোপচার (সেলাই) চলছে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি নিজেই আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান,সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল বলেন,একটি ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ অন্য পক্ষের মোবাইল কেড়ে নিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুরো ঘটনা তদন্তে প্রশাসন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আপনার মতামত লিখুন :