নেত্রকোণায় উচ্চ ফলনশীল ‘ব্রি ধান১০৩’ এর বাম্পার ফলন: মাঠ দিবস ও শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নেত্রকোণায় উচ্চ ফলনশীল ‘ব্রি ধান১০৩’ এর বাম্পার ফলন: মাঠ দিবস ও শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত
মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোণা।
নেত্রকোণায় আমন মৌসুমে স্থানীয়ভাবে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে ‘ব্রি ধান১০৩’ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোণার আয়োজনে এবং এলএসটিডি প্রকল্পের (নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন প্রকল্প) অর্থায়নে আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে ব্রি, নেত্রকোণা’র মনোনীত প্রযুক্তি গ্রাম জেলার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের বাদেবিন্না গ্রামে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি, আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোণার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান কৃষিবিদ মো. খালিদ হাসান তারেক। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৈয়দ শাকুর আহমদ।
মাঠ দিবসের শুরুতে ‘ব্রি ধান১০৩’ জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ বাস্তবায়নে সহায়তাকারী স্থানীয় কৃষক চান খাঁ-এর জমিতে নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। এসময় ১০ বর্গমিটার জমির ধান কেটে পরিমাপের পর হেক্টরপ্রতি ৬.২ টন ফলন পাওয়া যায়, যা আমন মৌসুমের বিবেচনায় অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
ফসল কর্তন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কৃষক চান খাঁ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ বছর তিনি ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান১০৩ আবাদ করেছেন। প্রতি ৮ শতাংশ জমিতে তিনি গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ মণ ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমন মৌসুমে এবারই আমি সর্বোচ্চ ফলন পেয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এলাকার আগ্রহী অন্য কৃষকদের মাঝে সরবরাহের জন্য আমি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজ সংরক্ষণ করব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৈয়দ শাকুর আহমেদ বলেন, “নিজেদের লাভবান করতে এবং দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।” তিনি কৃষকদের বায়ো-পেস্টিসাইড ব্যবহার, সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি এবং ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতসমূহ চাষের পরামর্শ প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোণার প্রধান মো. খালিদ হাসান তারেক দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে উফশী জাত চাষের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি কৃষকদের সতর্ক করে বলেন, “ভবিষ্যতে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে এবং মানসম্মত ফলন নিশ্চিত করতে নিজেদের উৎপাদিত বীজ নিজেদেরই সংরক্ষণ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক সংলাপ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, শিক্ষক ও সমাজসেবক মাসুদ আকন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়া বাদেবিন্না ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় অর্ধশতাধিক সুবিধাভোগী কৃষক-কৃষাণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :