এআই এবং অস্তিত্বের সংকট: মানবজাতি কি প্রযুক্তির ‘নিয়ন্ত্রণ’ হারানোর শেষ দ্বারপ্রান্তে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
এআই এবং অস্তিত্বের সংকট: মানবজাতি কি প্রযুক্তির ‘নিয়ন্ত্রণ’ হারানোর শেষ দ্বারপ্রান্তে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নিউইয়র্ক: প্রযুক্তির অদম্য গতিপথ কি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিবর্তন যখন মানবসভ্যতার প্রতিটি স্তরে অভাবনীয় প্রভাব ফেলছে, ঠিক তখনই এক গভীর সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মই হয়তো ইতিহাসের সেই শেষ অধ্যায়, যারা মানুষ ও যন্ত্রের সহাবস্থানের রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে।
একটি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে গুতেরেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং এর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এআই-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা করা; উল্টোটা ঘটলে তা হবে মানব অস্তিত্বের জন্য এক বড় ধরনের বিচ্যুতি।
দ্বিমুখী তরবারির নাম এআই
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাক্ষী। একদিকে এআই চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, অন্যদিকে এর অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। গুতেরেসের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সেই ভারসাম্যের তাগিদ। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রকের আসনে না বসে, বরং তা যেন মানব কল্যাণের সহায়ক শক্তি হিসেবেই কাজ করে।
"আমরাই হয়তো শেষ প্রজন্ম, যাদের হাতে মানুষ ও যন্ত্রের সহাবস্থানের শর্তগুলো নির্ধারণ করার সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে"—মহাসচিবের এই মন্তব্য প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের ডাক
এআই-এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো একক দেশ বা কোম্পানির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকার বিষয়টি গুতেরেস এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। তার আহ্বানটি ছিল বেশ সুনির্দিষ্ট: “আসুন, আমরা মানবতার দ্বারা, মানবতার সাথে এবং সমগ্র মানবতার কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রযুক্তির সুফল যেন গুটিকয়েক উন্নত দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং বৈশ্বিক দক্ষিণ (Global South) সহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই মন্তব্য কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভাষণ নয়, বরং এটি একটি ‘গ্লোবাল অ্যালার্ম’। প্রযুক্তির সামরিকীকরণ বা নৈতিক অবক্ষয় রোধে বিশ্বনেতাদের এখন কেবল বাক্য বিনিময়ের বদলে একটি আইনি কাঠামোর দিকে এগোতে হবে। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের গতি এখন সময়ের চেয়েও দ্রুত।
ভবিষ্যৎ পৃথিবী কি যন্ত্রের পদানত হবে, নাকি মানুষ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরবে—সেই অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বর্তমান বিশ্ব। জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বার্তা যেন সেই চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণেরই এক নীল নকশা।
আপনার মতামত লিখুন :