গাইবান্ধার চরাঞ্চলে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের কর্মযজ্ঞ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের কর্মযজ্ঞ
রংপুর ব্যুরো:
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড’ গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে ইতিমধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করে খনিজ পৃথকীকরণের কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণ, এই প্রকল্প থেকে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান খনিজ সম্পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার কামারজানি, গিদারি ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল জুড়ে এই খনিজ ব্লকের অবস্থান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ৫টি নির্দিষ্ট খনিজ আহরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত খনিজ সম্পদের ৪৩ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৫৭ শতাংশ পাবে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড। বর্তমানে কামারজানি বন্দরসংলগ্ন এলাকায় আধুনিক ‘মিনারেল সেপারেশন প্ল্যান্ট’ এর মাধ্যমে বালু থেকে ৫টি মূল্যবান খনিজ আলাদা করা হচ্ছে। এগুলো হলো জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গারনেট। এসব খনিজ সিরামিক, টাইলস, রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস, ঔষধ ও ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে টাইটানিয়াম ধাতু ও ওয়েল্ডিং রড তৈরিতে এসব খনিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে দেশের শিল্প খাতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। প্রকল্পের নির্বাহী ইমরান আহমেদ বলেন, পরীক্ষামূলক স্তর শেষ করে বর্তমানে পুরোদমে বালু সংগ্রহের কাজ চলছে। চরের এই খনিজ বালু থেকে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তারা।
আপনার মতামত লিখুন :